Friday, 16 September 2016

সেক্রিফাইস

-তুমি আমাকে কতটা ভালবাস (রিনা)
-কতটা ভালবাসি বোঝাতে পারবো
না। তবে এটা বলতে পারি-তোমাকে
আমি অনেক ভালবাসি। (রনি)
-তাই? না তোমাকে বলতে হবে কতটা
ভালবাস।
-আচ্ছা বলছি, আমি তোমাকে এক সাগর
পরিমাণ ভালবাসি।
-তাই তুমি আমাকে এই ভালবাস? হবে
না। পৃথিবীতে কি সাগর একটা? বুঝছি
তুমি আমাকে ভালোই বাস না।
-আচ্ছা, পৃথিবীতে যতগুলো সাগর আছে
ততটা ভালবাসি তোমাকে আমি।
সত্যি অনেক ভালবাসি।
-আচ্ছা ওকে। কিন্তু পৃথিবীতে কতটা
সাগর আছে আগে সেটা বল।
-কতটা সাগর?
কথাটা বলেই মাথা চুলকাতে থাকে
রনি।
.
রনি, প্লে বয় টাইপ ছেলে। মাসে
মাসে গার্লফ্রেন্ড চেঞ্জ করে। রিনা
কত নাম্বার গার্লফ্রেন্ড রনির, তা রনি
নিজেও জানেনা। আজ তারা
ডেটিংয়ে আসে। এসেই ভড়কে বসে
আছে রনি। কি জবাব দেয়া যায়
মেয়েটার প্রশ্নের উত্তরে।
পিছন থেকে এতটা সাগড় আছে বলে
একটা সংখ্যা বলে দেয় নীল।
নীল, রনির সবচেয়ে কাছের বন্ধু। মানে,
বেস্ট ফ্রেন্ড। রনি যখন কোন
ডেটিংয়ে যায় তখন সাথে করে
নীলকে নিয়ে যায়। যেকোন কাজে
নীল নিয়ে ভরসা পায় রনি। বিপদে
পড়লে একমাত্র নীলের সাহায্যেই
উদ্ধার হতে পারে রনি। আজকেও
সাগড়ের সংখ্যাগুলো বলে বড় বিপদ
থেকে বাঁচিয়ে দেয় রনিকে।
.
-দোস্ত, সাড়ে চারটা বাজে। তোর
না নতুন একটা মিটিং আছে? সময়তো
হয়েই গেল। যাবি কখন? (নীল)
-কি? সাড়ে চারটা? তুই আগে বলবি
না? ধ্যাৎ! এতক্ষন পড়ে কেন বললি?
আচ্ছা রিনা, আমি এখন আসি। নতুন
একটা মিটিং আছে। খুব জরুরী। পড়ে
তোমায় ফোন দিব- বলেই নীলকে
সাথে নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে রনি।
বাইক ছিল বলে রক্ষা। সাথে সাথে
বাইক স্টার্ট দিল রনি। তারপর বিশ
মিনিটের মাথায় এসে গেল মিটিং
স্পটে। এসেই...
-তুমি এতক্ষন দেরি করলা কেন? তোমার
না সাড়ে চারটায় আসার কথা। এখন
কয়টা বাজে? ত্রিশ মিনিট লেট
(টিনা)
-সরি জান, একটা মিটিংয়ে
ছিলামতো তাই। খুব জরুরী মিটিং।
তাই একটু দেরীতে শেষ হল। এবং
আসতেও লেট হল। সরি!!! (রনি)
টিনা, রিনার মতোই আরেকটা
গার্লফ্রেন্ড। প্লে বয় রনি। মাসে
মাসে গার্লফ্রেন্ড চেঞ্জ করে। এটাও
নতুন গার্লফ্রেন্ড।
-সরি, আসলে আমার বন্ধু জরুরী একটা
মিটিংয়ে ছিলতো তাই দেরী করে
ফেলে। খুব জরুরী মিটিং। বুঝতেই
পারছেন। তাই দেরী হল। (নীল)
-রনি, এই ছেলেটা কে(নীলের দিকে
আঙ্গুল দেখিয়ে)
-ওহ, ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। আমি যখন
ডেটিংয়ে যাই তখন সাহস দেয়ার জন্য
ও আমার সাথে থাকে।
-বুঝলাম, কিন্তু এখানে আমার আর
তোমার মাঝে এ থাকবে কেন? একটু
সাইডে আস তো। কিছু কথা আছে।
রনি একটু সাইডে গেল টিনার সাথে।
সাথে সাথে নীলও গেল।
-জ্বি, কি বলবেন বলেন। (নীল)
-আপনাকে কেন বলবো? আমিতো
রনিকে ডাকছি শুধু। আপনি যান।
-সমস্যা নাই, আপনি দুজনকেই বলতে
পারেন।
-নাহ্ আমি ডেটিংয়ে আসছি রনির
সাথে। আপনি একটু দুরে যান। রনি তুমি
কিছু বলছো না কেন?
-আসলে আমার সব কথা ওর সাথে
শেয়ার করিতো। ও আমার পার্সোনাল
সব কিছু জানে। তাই, বলতে পার। (রনি)
-জ্বি, আমি ওর পার্সোনাল সব কিছু
জানি, বলেন। (নীল)
-না, রনি প্লিজ ওকে দুরে যেতে বল।
(টিনা)
-আচ্ছা, দোস্ত দুই মিনিট। তুই একটু দুরে
যা। কি বলে শুনি। তোকে পরে
জানাবো। (রনি)
-আচ্ছা, গেলাম। তারাতারি কর।
কিছুক্ষন কথা বলার পরে রনি নীলের
কাছে গিয়ে বলল,
-দোস্ত, টিনা আমার সাথে কিছুক্ষন
সময় চাইতেছে। তোকে বাড়ি চলে
যেতে বলতেছে। প্লিজ কিছু মনে
করিছ না। তুই বাড়ি যা।
-কি, তুই আমারে ডেকে এনে এই কথা
বলতেছস? সমস্যা নাই তোরা টাইম পাস
কর। আমি বসে বসে মুড়ি খাই। প্রতিদিন
যা করি আরকি।
-না দোস্ত, আজকে মুড়ি বাড়ি গিয়ে
খা।
-কিহ্ (রেগে গিয়ে)
-প্লিজ দোস্ত। যা না বেটা।
-যাচ্ছি, এর পর থেকে যদি আর কোন
ডেটিংয়ে ডাকিস তুই। তাহলে তোর
একদিন কি আমার একদিন। দে তোর
বাইকের চাবি দে। আচ্ছা লাগবে
না,হুর। আমি কি বাইক চালাতে
পারি? যাচ্ছি, আর আসবো না কোন
ডেটিংয়ে। তুই তোর গার্লফ্রেন্ডের
জন্য বন্ধুকে পর করে দিলি।
রেগে রেগে কথা গুলো বলে নীল
বাড়িতে চলে আসে।
.
দুই দিন ধরে বের হয় না নীল। রাত অনেক
হলো। হঠাৎ করে নীলের ফোনটা
বেজে উঠল। নীল মোবাইলটা হাতে
নিল। দেখল- রনির ফোন। কয়েকবার
রিং করার পর রিসিভ করে ফোন।
-হ্যা, বল (নীল)
-দোস্ত, কাল সকালে ঈশার সাথে
ডেটিং আছে। আসবি কিন্তু তুই। সকাল
১০টায়। (রনি)
-সরি, দোস্ত। আসতে পারবো না। তুই ওই
দিন যা অপমান করলি একটা মেয়ের
লাইগা। এরপরতো তোর ফোন ধরাও ভূল
আমার।
-দোস্ত, আমি সরি। প্লিজ রাগ করিস
না। এটা লাস্ট ডেটিং। এরপর আর কোন
ডেটিংয়ে যাবো না। ফেসবুকে
দেখা মেয়েটার সাথে। মেয়েটাকে
ভালবেসে ফেলছি আমি। একেই বিয়ে
করবো। আমার সিদ্ধান্ত ফাইনাল।
-এর আগেও অনেকবার বলছস। তুই তো
মাসে মাসে গার্লফ্রেন্ড চেঞ্জ করস।
তুই আবার বিয়ে করবি কেমনে। দেখ
আমার নাই কোন মেয়ের চক্কর নাই
ডেটিংয়ের চক্কর। ফ্রিডম লাইফ।
-দোস্ত, আর জীবনেও কোন মেয়ের
সাথে ডেটিংয়ে যাবো না। এটা
লাস্ট বলছি লাস্ট। দরকার হলে আমি আর
আমার গার্লফ্রেন্ড ঈশা মিলে তোর
জন্য একটা মেয়ে খুজবো। প্লিজ দোস্ত
না করিস না। আর অপমানও করবো না
কোনদিনও।
-আচ্ছা ওকে। কয়টায় ডেটিং।
-১০টায়। যাবি তুই ফাইনাল?
-হুম, যামু। তোর কোন ডেটিংয়ে যাই
নাই এমনটা হইছে কখনও? যামু আমি সত্য।
.
পরদিন সকালে রেস্টুরেন্ট গিয়ে বসে
থাকে রনি আর নীল মুখোমুখি। ১০টা
বাজার কিছুক্ষনের মাথায় ঈশা চলে
আসে। এসেই রনির পাশে বসে। এদিকে
নীলের অবস্থা কাহিল। একদৃষ্টিতে
তাকিয়ে আছে ঈশার দিকে। লক্ষ
করছে কিভাবে মেয়েটা কথা বলছে।
চোখ দুটো অসম্ভব মায়াবী। ঠোট
জোড়া গাড় লাল। নজর কেড়ে
নিয়েছে নীলের। একটা মেয়ে এত সুন্দর
কিভাবে হতে পারে?
-এই নীল, কি দেখস? (রনি)
-এঁহহহহ্
-আরে বেটা এদিকে তাকা।
-ও সরি
-শুন, এ হচ্ছে ঈশা। (ঈশার দিকে
তাকিয়ে)
আর ঈশা, এ হচ্ছে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।
-হাই! (ঈশা)
-হাহ্ হহহহহাই!!!! (নীল)
তাকিয়ে আছে নীল ঈশার দিকে
এখনও। বুঝতে পারছেনা নীল। কি আছে
এর মাঝে। পলক কেন পড়তে চায় না।
-দোস্ত, তোর জন্য একটা মেয়ে দেখে
দিবে ঈশা। তুই এখন টেনশন মুক্ত।
-হ্যা, আমি আপনার জন্য আমার
কাজিনের কথা ভাবছি। তার সাথে
পরিচয় করিয়ে দিব। (ঈশা)
.
এভাবেই শেষ হয়ে যায় সেদিনকার
রনির ডেটিং। রাতের ঘুমটা কেন
জানি উড়ে যায় নীলের। এই প্রথম কোন
মেয়ের প্রেমে পড়ে গেল ছেলেটা।
-ধ্যাৎ কি ভাবি আমি এগুলো। ও আমার
ফ্রেন্ডের গার্লফ্রেন্ড। ছিঃ! এগুলো
ভাবতে নেই।
এভাবে কয়েকদিন কেটে যায় নীলের।
ভাবনা জুড়ে ঈশা মেয়েটা। হাজার
হলেও বন্ধুর গার্লফ্রেন্ড। তারপরও
ভাবনাকে আটকে রাখা যাচ্ছেনা।
.
এরপর একদিন রনি নীলকে ছাড়াই
ডেটিংয়ে আসে ঈশার সাথে। এবার
তারা কোন রেস্টুরেন্টে নয়। খোলা
মেলা একটা যায়গায় আসে। যেখানে
প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা। তারা
একটা পার্কে ডেটিংয়ে আসে।
রনি ও ঈশা দুজনে একে অপরের হাত ধরে
এগুতে থাকে সামনে। হঠাৎ করে
কোত্থেকে, রিনা ও টিনা চলে
আসে। রনির হাত ঈশার হাত ধরে
থাকায় বুঝতে বাকি থাকে না রিনা
ও টিনার। পুরো ব্যাপারটা বুঝে ওঠার
আগেই রনি ঈশার হাত ছেড়ে দেয়।
ঈশাও বুঝে ফেলে প্লে বয় রনির চরিত্র।
সেও কিছু না বলে রনির হাতে ছেড়ে
দিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়। এদিকে
রিনা ও টিনা পায়ের জুতো হাতে
নেয় রনিকে মারার জন্য।
কোনভাবে ভোঁ দোড় দিয়ে আজকের
বাঁচা বেঁচে যায় রনি। ফোন দেয় নীল
কে,
-দোস্ত, কই তুই? ঈশাতো আমাকে রিনা
ও টিনার জন্য ভূল বুঝছে। তুইতো জানসই
আমি ঈশাকে শেষ পর্যন্ত বিয়ে করার
সিদ্ধান্ত নিছি। তুই কিছু একটা কর
দোস্ত। প্লিজ ঈশাকে মেনেজ কর।
-আচ্ছা আমি কি করত পারি তুই বল।
-তুই ঈশার সাথে কথা বলে ওকে
মেনেজ কর। তারপর আমাকে জানা।
ঈসার সাথে নীলের কথা বলার এই
সুযোগ। না হলে আর কোন ওয়ে নাই।
তাই নীল বলে,
-আচ্ছা, তুই ঈশার ফোন নম্বর দে। আমি
দেখতেছি ব্যাপারটা।
-এই নে, ০১৭........ প্লিজ দোস্ত তুই
ব্যাপারটা একটু তারাতারি দেখ।
-ওকে, এখন ফোন রাখ। আমি দেখতেছি-
বলেই ফোন কেটে দেয় নীল।
খুশিতে লাফাইতে থাকে সে। ঈসার
ফোন নম্বর পাইছে। অনেক ভেবে
চিন্তে ফোন দেয় নীল ঈসার নম্বরে।
-হ্যালো ঈশা? (নীল)
-হ্যা, কে? (ঈশা)
-নীল, কেমন আছ?
-এই তোহ্। আপনি?
-আমি ভাল, তো রনির সাথে কি
হইছে?
-প্লিজ ভাইয়া, আপনি ওর কথা আর
বলবেন না। আমি ওর সাথে কোন প্রকার
রিলেশন কন্টিনিউ করতে চাচ্ছি না। ও
একটা ফ্রড। ও আমাকে ধোঁকা দিছে। খুব
খারাপ লাগতেছে আমার।
-যেও না রিলেশনে। আমিতো যেতে
বলছি না। প্লে বয় টাইপ ছেলে।
তোমার জন্য দরকার ভাল ছেলে। খুজে
দেখ পেয়ে যাবে। তোমার
চারিপাশেই আছে।
-আচ্ছা দেখব। এখন রাখি।
-এই শুনো শুনো?
-কি, বলেন
-কাল একটু ওই পার্কে আসবা?
-কেন?
-কিছু কথা আছে।
-ফোনে বলেন।
-নাহ্, সম্ভব না। পার্কে আস। তারপর সব
বলব।
-আচ্ছা, কবে আসব?
-বিকেল ৪টায়।
-ওকে, বাই।
-বাই, ভাল থেকো...
ফোন কেটে দেয় ঈশা। কি বলবে কাল
সে ঈশাকে ভাবতে থাকে নীল।
খুশিতে তার মন দুলতে থাকে। মনে এক
অনাবিল শান্তি বয়েই যাচ্ছে।
.
পরদিন বিকেল চারটায় পার্কে এসে
দাড়িয়ে থাকে নীল। কিছুক্ষনের
মধ্যে ঈশাও এসে পড়ে। তারপর ঈশা
বলে,
-কি বলবেন নীল ভাই বলে ফেলেন।
-কিভাবে বলবো বলেই- ছটফট করতে
থাকে নীল। সে যে ঈশাকে
ভালবাসে তা কিভাবে বলবে
তাকে। কথা বলার আগেই গলা শুকিয়ে
আসে নীলের। সাথে পানির বোতল
ছিল বলে সেখান থেকে পানি পান
করে নীল। তারপর কোন দ্বিধা না
করেই বলে ফেলে,
-I Love You ঈশা। আমি তোমাকে
ভালবাসি। অভাক হচ্ছো? আসলে অভাক
হওয়ার মতোই বিষয়। আমিও জানিনা
কিভাবে তোমাকে ভালবেসে
ফেলছি। সত্যি আমি তোমাকে অনেক
খুশি রাখবো। কখনও কষ্ট দিবো না।
আমি রনির মতো না। অনেক হ্যাপি
রাখবো তোমায়। প্লিজ না করো না।
এক্সেপ্ট মি। প্লিজ ঈশা।
-কিহ্!!! কি বলছেন এসব? আপনার মাথা
ঠিক আছে?
-হ্যা, আই থান্ডা মেজাজে বলছি,
আমি তোমাকে ভালোবাসি। প্লিজ
এক্সেপ্ট মি। না করো না। প্লিজ।
-আপনার বন্ধু কি জানে? আপনি যে এসব
করছেন? আপনরা কথা শেষ হলে আমি
যাই এখন।
কথাটা বলেই হাটা শুরু করে ঈশা। নীল
দোড়ে গিয়ে ঈশার হাত দুটো ঝাপটে
ধরে। তারপর বলে,
-কোথায় যাচ্ছো? বললাম না আমি
তোমাকে রনির থেকে আরো বেশি
সূখে রাখবো? ওতো প্লে বয়। কিন্তু
আমি তেমন না।
ঝাপটে ধরায় একটু ব্যাথা পায় ঈশা।
-উফ্ (মৃদু আওয়াজ দেয়)
-সরি সরি, ঈশা তুমি ব্যাথা পাইছো?
আমি আসলে তোমাকে আঘাত দিত
চাইনি। সরি সরি। প্লিজ কিছুতো
বলো?
কোন উত্তর না দিয়েই চলে যায় ঈশা।
আর নীল,
তার চলে যাওয়া পথের দিকে এক
দৃষ্টিতে চেয়ে আছে।
.
পরদিন ঈশা পুরো ব্যাপারটা রনিকে
জানায়। বলে,
-তোমার বন্ধু এগুলা কি শুরু করছে? সে
আমাকে I Love You বলছে। তা আবার
আমার হাতও ধরছে।
-কি? নীল এসব করছে? সত্যি এসব করছে?
দাড়াও দেখাচ্ছি আমি মজা তাকে।-
বলেই কিছু ছেলে ভাড়া করে নীলকে
ধরিয়ে নিয়ে আসে। তারপর তাকে
বলে,
-কিরে তুই জানস না, ঈশা আমার
গার্লফ্রেন্ড?
-জানি
-তারপরও তুই তাকে এগুলা কি বলছস?
তোর সাহস হলো কিভাবে তাকে এসব
বলার?
তারপর কাছে থাকা ছেলেগুলো
দিয়ে অনেক মারধর করায়। এরপর বলে-
তোরে যে আমার আর ঈশার সামনে না
দেখি।
.
এরপর নীলকে আর দেখা যায় নি। রনিরও
খারাপ লাগে নীলের সাথে করা
আচরন গুলোর কথা। হঠাৎ কল আসে রনির
ফোনে। ফোনে রনি জানতে পারে,
নীল হাসপাতালে। সময় বিলম্ব না করে
রনি ঈশাকে নিয়ে হাসপাতালে চলে
যায়। নীলের জ্ঞান আছে এখন। রনি
কাছে গিয়ে বলে,
-সরি দোস্ত, আমার অনেক বড় ভূল হইছে।
ছোট বেলায় তুই আমার জন্য অনেক কিছু
সেক্রিফাইস করছস। পরীক্ষার সময়ও তুই
না লিখে আমায় লেখা দেখাইতি।
ক্ষুদা থাকলেও তুই না খেয়ে আমাকে
খাওয়াতি। তুই আমার জন্য অনেক কিছু
সেক্রিফাইস করে আসতেছস ছোট
বেলা থেকে। আর আমি কিনা তোর
জন্য একটা গার্লফ্রেন্ড সেক্রিফাইস
করতে পারবো না। দোস্ত তুই যা চাইবি
তাই হবে। আর মেয়েদের মতো সুইসাইড
করতে গেছিলি কেন? (রনি)
-মেয়েরাতো, গলায় ফাঁস দিয়ে
সুইসাইড করে। আমি কি তা করছি?
আমিতো শুধু হাতের রগটা কাটছি সহ্য
করতে না পেরে। থাক আমার জন্য
সেক্রিফাইস করা লাগবে না। তোর
গার্লফ্রেন্ড তোরই থাকবে। শুধু আমায়
কথা দিতে হবে একটা। (নীল)
-কি কথা বল?
-ঈশার সাথে তোর প্রত্যেকটা
ডেটিংয়ে কিন্তু আমায় নিয়ে যেতে
হবে। আর তাকে কখনও ছেড়ে যেতে
পারবি না। কষ্ট দিবি না কখনও। সূখে
রাখবি সবসময়। কথা দে?
-কথা দিলাম। প্রত্যেকটা ডেটিংয়ে
তোকে নিয়ে যাবো। কখনও ছেড়ে
যাবো না। কষ্টও দিবো না। সবসময় সূখে
রাখবো।
-ওকে, চালিয়ে যা তোরা...
.
এভাবেই চলতে থাকে রনি আর ঈশার
প্রেম। তাদের প্রত্যেকটা ডেটিংয়ে
নীলকে সাথে নিয় যায় রনি ও ঈশা।
রনি ও ঈশা যখন একটা গাছের নিছে
কথা বলতে থাকে। তখন তা দূর থেকে
নীল একটা বেঞ্চিতে বসে দেখে। যখন
ঈশা রনির হাতটাকে আকড়ে ধরে
কাঁধে মাথা রাখে তখন তা দেখে
নীলের চোখে পানি এসে যায়।
একমনে সেদিকে তাকিয়ে থাকে
সে। ঝড়তে থাকে অঝর ধারায় পানি
চোখ দিয়ে।
তখন মনের কোণে একটা আওয়াজ ভেসে
আসে,
ঈশা, কেউ জানেনা হয়তো, কিন্তু আমি
জানি আমি তোমারই। আর তুমি জানো
তুমি যে সবসময় আমার।
আজও না হয় সেক্রিফাইসটা আমি করে
গেলাম। রেখে গেলাম অমর এক স্মৃতি।
হারিয়ে গেলাম দূরে বুহুদূরে।
.....
চোখের পানি? সে তো বয়েই চলছে.....
To Be Continued...

No comments:

Post a Comment