সুপ্তা ও রাফি তারা পাশাপাশি
গ্রামে
থাকে। সেখানের শিশু কানন নামে
এক
প্রাইমারি ইস্কুলে তারা পড়াশোনা
করে
সুপ্তি ও রাফি একই ক্লাসে পড়ে সুপ্তির
বয়স
৭ বছর আর রাফির বয়স ৯ বছর। প্রতিদিন
রাফি সুপ্তিকে নিয়ে ইস্কুলে যেত।
তারা কত
দুষ্টমি করত রাস্তা দিয়ে ইস্কুলে
যাওয়ার
সময় যেকোন ফলের গাছ সামনে পড়ত
সুপ্তি
রাফিকে বলত তাকে ফল পেরে দিতে
রাফি
বাদ্য হয়ে সুপ্তির সব আবদার পূরন করত।
তারা
যখন ক্লাস ৩ পড়ে তখন ইস্কুলে বার্ষিক
ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে
এতে
রাফি দৌড় খেলায় ফ্রাষ্ট হয় এদিকে
সুপ্তিও
দড়ি ঘুরানো খেলায় ফ্রাষ্ট হয় পুরুস্কার
সরূপ
রাফি পায় একটা কলম আর সুপ্তি পায়
একটা
ডাইরী যাওয়ার পথে রাফি সুপ্তিকে
তার
কলমটা দিয়ে দেয় এই দিকে সুপ্তি তার
ডাইরিটা দিতে চাইলে রাফি নিল
না সুপ্তি
বলল তুই কি নিবে রাফি বলল আমি সময়
হলে
তর কাছ থেকে চেয়ে নিব। দেখতে
দেখতে
সুপ্তি বাড়ির কাছে চলে এসেছে
সুপ্তি
বাড়িতে চলে গেল এদিকে রাফিও
বাড়িতে
চলে আসে। দেখতে দেখতে তাদের
দুষ্টমির
মাধ্যে দুটি বছর কটে গেল। চলে আসল
পঞ্চম
শ্রেণীর বার্ষিক পরিক্ষা। পরিক্ষায়
তারা
উভয়েই ভাল মার্ক পেয় পাস করে।
এবার তারা প্রাইমারী ইস্কুল পেরিয়ে
হাইইস্কুলে প্রদার্পন করে। সেই স্কুলটা
তাদের এখান থেকে ২ কিঃ দূরে।
রাফি ও
সুপ্তি পায়ে হেটেই স্কুলে যেত।
হাইস্কুল ও
তাদের আনন্দে দুষ্টমিতেই কাটতে
লাগল।
এভাবে কেটে গেল ৪ বছর এবার তারা
ক্লাস
নাইনে। সেদিন ছিল ১৪ ফ্রেব্রুয়ারী
রাফির
হাতে দেখা গেল লাল টকটকে একটা
গোলাপ
সুপ্তিকে দেবে বলে এনেছে ফুলটা
হাতে
হাত তার পিছনে রেখে সুপ্তিকে বলল
সুপ্তি
আজ তর কাছে একটা জিনিস চাইব
দিবি?
সুপ্তি বলল কি? রাফি বলল আগে বল
দিবি কি
না সে বলল তর জন্য তো আমার
জীবনটাও
দিয়ে দিতে পারি। এমনিই রাফি
পেছন
থেকে গোলাপটা দিয়ে বলল Ilove you.
তখন
সুপ্তি হতভঙ্গ হয়ে পড়ল। তখনি মাথা নিচু
করে
বই নিয় বাড়িতে চলে গেল। আর
এইদিকে
রাফির হাত থেকে ফুলটা মাটিতে
পড়ে গেল।
আর রাফি সেখানে অনেক্ষন
সেখানে বসে
থাকার পর আস্তে আস্তে বাড়ির
দিকে চলে
গেল। এদিকে সুপ্তির সেদিন থেকেই
জ্বর
মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে গেল। আর সুপ্তিও
বাড়িতে গিয়ে চিন্তায় পড়ে গেল
মনে মনে
ভাবতে লাগল রাফির সাথে এরখম করা
মোটেও উচিৎ হয়নি সে ভাবছে তার
জ্বর ভাল
হলেই তাকে বলে দেবে Ilove you 2.
কিন্তু সুপ্তি জ্বরের কারনে তিন দিল
স্কুলে
যেতে পারেনি। এদিকে রাফি
পরদিনেই
স্কুলে এসে মনে করল সুপ্তি তার প্রতি
রাগকরে স্কুলে আসছে না খুঁজ নিয়ে
জানতে
পাড়ল সুপ্তি অসুস্ত। রাফি তাকে
দেখতে
গেল। গিয়ে রাফি বলল তুই কি আমার
প্রতি
রাগ করে আছিস? সুপ্তি কোন কথা বলল
না।
পরে রাফি বলল আমার ভূল হয়েছে
আমাকে
মাফ করে দিস। তখন সুপ্তি বলল কিসের
মাপ?
মাপ তো আমার তর থেকে চাওয়া
উচিৎ
সেদিন লজ্জায় কিছু বলতে না পারায়
সেদিন হতে আজও কষ্ট পাচ্ছি তাই আজ
বলছি তকে। Ilove you2. তখন রাফির দুই
চোখ
খুশিতে অশ্রু বের হয়ে গেল। আর সেদিন
হতেই
তাদের প্রেম চলতে লাগল। এভাবে
তাদের দিন
কাটতে লাগল।
ইতিমধ্যেই তাদের SSC Exam চলে আসল
দুজনেই পরিক্ষায় রিজাল্ট খারাপ করল।
দুই
পরিবার থেকেই এটা মেনে নিতে
পারে নি
যে কারনে তাদের আলাদা হতে
হয়েছে
পরবর্তিতে দুজনই ভাল রিজাল্ট পেয়ে
পাস
করে। এবার তারা কলেজ জীবনে
প্রদার্পন
করে। এরি মাঝে দুই পরিবারের মধ্যে
ঝগড়া
হয়। আর রাফি আর সুপ্তির সম্পর্কের কথা
জানাজানি হয়ে যায়। এতে সুপ্তি
বাবা
সুপ্তিকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে
লাগে। এদিকে রাফির পরিবার
রাফিকে ঘর
থেকে বেরোতে দিচ্ছেনা। ৫-৬ দিন
পর সুপ্তি
তার বান্ধবি রিমাকে দিয়ে রাফির
কাছে
কবর পাটায় রাফি যাতে বিকালে
রিমাদের
বাড়িতে আসে সেই দিন এই বিকালে
তাদের
দেখা। সুপ্তি বলল রাফি বাবা আমার
বিয়ে
দেয়ার জন্য পাএ খুঁজছে আগামি কাল
পাএ
পক্ষ আমাকে দেখতে আসবে। রাফি
বলল
তোমাকে ছাড়া এক মহুর্ত ও আমি
বাচতে
পারব না সুপ্তিও বলল অন্য কারো হওয়ার
আগেই আমি মরে যাব। এই কথা বলে
সুপ্তি
চলে গেল। সুপ্তিকে পড় দিন দেখতে
আসল
সবার পচন্দ হল আর হবে না কেন? সুপ্তি
রুপে
গুনে সব দিককেই ফেলে দেয়ার মত না।
সুপ্তির বিয়ে ঠিক হল স্বামী বিদেশে
থাকে।
এই দিকে রাফির চিন্তায় রাফি দিন
দিন
অসুস্ত হয়ে পড়ল সুপ্তিও না খেয়ে
চিন্তায়
কেমন যেন হয়ে গেল। সুপ্তি কোন দিন
তার
পিতার অবাদ্য হয়নি তাই আজও হতে
পারবেনা। এইদিকে রাফি সুপ্তির
বিয়ের ২
দিন আগে হঠাৎ সকালে মারা যায়।
সুপ্তি এই
খবরটা সুনে তার মাথায় যেন আকাশ
ভেঙ্গে
পড়ল। রাফি মরার আগে একটা চিঠি
লিখে
রেখে যায় সুপ্তির জন্য চিঠিতে
রেখা চিল
সুপ্তি জানি কাল দিন পর তুমি পরের
ঘরে
চলে যাবে আর আমি বেছে থেকে
ককনও এটা
মেনে নিতে পারব না বেছে থাকলে
হয়ত
তোমার স্বৃতি নিয়ে কাদতে হবে
সারা জীবন
আর তোমাকে ঘৃনা করতে হবে তাই
তোমাকে
ভাল বেসে চলে গেলাম
ইতি
তোমার রাফি
চিঠিটা পড়ারর পর সুপ্তি যেন তার
বাক
শক্তি হারিয়ে ফেলেছে কাওকে
কিছু না
বলে উঠে চরে যায় এর পরদিন এই
সকালে
বিচানায় সুপ্তির লাশ পাওয়া যায়।
এভাবেই
ঝরে গেল সুপ্তি ও রাফির মত কোমল
দুটি
প্রান। তাই আমার অনুরুধ আপনারা
আপনাদের
ছেলেমেয়েদের মতকে উপেক্ষ না
করে
তাদের বুঝতে শিখুন।
Friday, 16 September 2016
একটি অপূর্ন প্রেমের গল্প.. .........
Labels:
Love Story
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment